ঢাকা : এডুকো বাংলাদেশের সহযোগিতায় ইকো স্যোসাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) বাস্তবায়িত অধিকার প্রকল্পে শিশুশ্রম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, শিশুশ্রম বন্ধে কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশুসুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। নগর শিশুশ্রম টেকসইভাবে মোকাবিলায় সমন্বিত ও বহুমুখী খাতভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে।
ইএসডিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ-উজ-জামানের সভাপতিত্বে ও এডুকো বাংলাদেশের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, এডুকো বাংলাদেশের পরিচালক (প্রোগ্রাম) আব্দুর রহিম প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে উত্থাপিত মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ঢাকা শহরে শিশুশ্রম বন্ধের জন্য গৃহিত পদক্ষেপগুলো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে অধিকার প্রকল্পটি কাজ করছে। এই প্রকল্পের আওতাভূক্ত শিশুদের মধ্য থেকে ৫৩ শতাংশ শিশুকে সম্পূর্ণভাবে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম থেকে প্রত্যাহার করে শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে শতভাগ যুবক ও ৮৫ শতাংশ অভিভাবক সম্মানজনক কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়ে পরিবারের জীবিকায় অবদান রাখছে। নিয়মিত পুষ্টিকর স্কুল টিফিনের ফলে কর্মরত শিশুদের মধ্যে গড়ে ৯০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। শিশুরা ব্যবহারিক আইসিটি দক্ষতা অর্জন করেছে এবং অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন হয়েছে, যা তাদের ডিজিটাল ক্ষমতায়ন ও নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে সহায়তা করেছে। টেকসই শিক্ষার জন্য শিশুশ্রমিকদের জীবন দক্ষতা শিক্ষায় ক্ষমতায়িত এবং শিশুশ্রমিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সামগ্রিক সহনশীলতা জোরদার করা হয়েছে। অভিভাবক ও নিয়োগকর্তাসহ প্রায় ৩০ হাজার কমিউনিটি সদস্য শিশুশ্রম, শিক্ষা অধিকার ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সচেতন করা সম্ভব হয়েছে।
সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুশ্রম জাতীয় উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করছে। তাই শিশুশ্রম নিরসনে সকলের জন্য সুশিক্ষা ও কর্মমূখী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। সরকার এ সকল বিষয়ে কাজ করছে। কিন্তু সরকারের এককভাবে শিশুশ্রম নিরসন সম্ভব না, কোনো সংস্থাও এককভাবে এটা নিরসন করতে পারবে না, এটা সামষ্টিক কাজ। শিশুশ্রম নির্মূল করতে হলে সরকারি সংস্থা, স্থানীয় সরকার, সুশীল সমাজ, বেসরকারি খাত এবং কমিউনিটির মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় প্রয়োজন।
ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন বলেন, বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর কৌশলে রূপান্তরের মাধ্যমে শিশুশ্রম প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটা বিবেচনায় নিয়ে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার কাজ চলছে। দেশে এখন অন্ততঃ ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করছে। কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে এটা আরো বাড়াতে হবে। এ বিষয়ে অনেক বেসরকারি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে কোন সহযোগিতা করতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, শিশুশ্রমের মূল কারণ দারিদ্র। তাই দারিদ্র নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে এ বিষয়ে বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব। এ জন্য কারিগরি শিক্ষার প্রতি আরো গুরুত্ব দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. শহীদ-উজ-জামান বলেন, শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও পুনর্বাসনে সরকারের পাশাপাশি এনজিও এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও টেকসই কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে। তাই শিশুশ্রম নির্মূলের উদ্যোগগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আবাসন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। শিশুশ্রম নির্মূলে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রাতিষ্ঠানিক দৃষ্টিভঙ্গি, তৃণমূল পর্যায়ের মতামত, সরকারি প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পের অংশীদার, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় শিশুশ্রম বন্ধে জাতীয় কৌশল বা নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিশুদের অংশগ্রহণ, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণের প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়।
###
পার্লামেন্টনিউজবিডি.কম, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং


Be the first to comment on "এডুকো-ইএসডিও’র অধিকার প্রকল্প শিশুশ্রম বন্ধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে"